টাঙ্গাইলে ব্যবসায়ী মহর আলী হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসি দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও স্বারকলিপি প্রদান

0

রবিন তালুকদার, টাঙ্গাইল.
Tangail-Pic 02টাঙ্গাইল পৌর এলাকা বেড়াবুচনা বউবাজারের ফার্নিচার ব্যবসায়ী মহর আলী হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে এলাকাবাসী। মহর আলী হত্যাকান্ডের একমাসের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও পুলিশ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত কাউকে সনাক্ত বা গ্রেফতার করতে পারেনি। আজও উদ্ধার হয়নি মহর আলীর মাথা ও দুই পা।
সোমবার সকালে পৌর এলাকার বেড়াবুচনা, সবুজবাগ, বাগনাবাড়ী, বেপারী পাড়া, কচুয়াডাঙ্গা ও ভাল্লুককান্দি এলাকার লোকজন বউ বাজারে জমায়েত হতে থাকে। পরে কয়েক হাজার নারী, পুরুষ একত্রিত হয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলটি টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে একটি মানববন্ধন করে। মানববন্ধনে বক্তৃতা করেন- জেলা ব্যবসায়ী ঐক্যজোটের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম মোস্তফা লাবু, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর মেহেদী হাসান আলীম, যুবদল নেতা আশরাফ পাহেলী, সাবেক কাউন্সিলর হায়দার আলী, জেলা মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা ও মাতাব্বর আনিসুর রহমান প্রমুখ। পরে তারা জেলা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে শেষ করে। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোশারফ হোসেন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহাদুজ্জামান মিয়ার নিকট মহর আলী হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। Tangail-Pic 03
উল্লেখ্য, বেড়াবুচনা বউ বাজার এলাকার মৃত জামাল হোসেন বেপারীর ছেলে মহর আলী বউ বাজারে ফাহিম নামে একটি ফার্নিচারের দোকান করতো। গত ২ জুন বিকেলে মহর আলী তার ফার্নিচারের দোকান থেকে বের হয়ে যায়। পরে তাকে শহরের একটি সিসি ক্যামেরায় দেখা যায় রিক্সা যোগে একটি বাসার সামনে নেমে যায়। তার পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরের দিন ৩জুন সকালে একটি ব্রিফকেসে Tangail-Pic 04শিরউচ্ছেদকৃত ও দুই পা বিচ্ছিন্ন দেহ পাওয়া যায়। খন্ডিত দেহ এবং পরিহিত শার্ট গেঞ্জি দেখে তার আতœীয় স্বজন মহর আলী লাশ সনাক্ত করে। এ ঘটনায় নিহত মহর আলী ভাই ইশারত হোসেন বাদী হয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর টাঙ্গাইল মডেল থানার সাব ইন্সপেক্টর মো. আবু সাদেক মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে তদন্ত শুরু করেন। নিহত মহর আলীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সুত্রধরে কয়েকজন গৃহবধুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। এ ছাড়া মামলার কোন অগ্রগতি না হওয়ায় পরে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন (পিবিআই) কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে পিবিআই মামলাটি তদন্ত করছে।
একমাস ৬টি গড়িয়ে গেলেও মহর আলী হত্যাকান্ডের কোন কুলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ। এতে করে এলাকাবাসী মহর আলী হত্যাকান্ডের বিচারের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসুচি পালন অব্যাহত রেখেছে।

Share.

About Author

Leave A Reply